Support Portal

24/7 Live Technical Support & Documentation.

24/7 TechSupport

ডোমেইন হোস্টিং ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছেন? কোথা থেকে, কিভাবে শুরু করবেন?

একটা সময় ছিল যখন আমরা তথ্য প্রযুক্তির স্বর্ণ সময়ের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। যদি বলা হয় সময়টা কখন? তাহলে বলতে হবে সময়টা অলরেডি এসে গেছে। অর্থাৎ এখনি সেই স্বর্ণযুগ। কথাটি আমার এক বন্ধু বলেছিল কয়েকদিন আগেই। আসলেই তাই। ২০১৮ সালের একেবারে শেষ প্রান্তে এসে অর্থ্যৎ আজ ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ। তথ্যপ্রযুক্তির স্বর্ণযুগে অবস্থান করতেছি। এখনি সময় এই সেক্টরে কিছু করে দেখানোর।

প্রযুক্তি পরিবর্তন হয়েছে, অনেক কিছুই এখন আপগ্রেড। হাই স্পীড ইন্টারনেট সাথে সাধারন জনগনের প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎসাহ সব কিছুই এখন অনলাইন সেক্টরে কাজের অনুকুলে। আজ থেকে প্রায় ৩/৪ বছর আগে এই ধরনেরই একটা পোস্টে বলেছিলাম অদূর ভবিষ্যতে হয়তো ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলো হয়তো মিউজিয়ামে আশ্রয় হবে। ২০১৮ সালে এর অনেকটাই প্রমান দেখেছি। সবাই ঝুকেছে এখন অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর দিকে, যেখানে গেলে পাওয়া যাবে আপডেটেড নিউজ। কে আর পড়বে ১ দিনের পুরাতন বাসী নিউজ। ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলো একে একে বন্ধ হয়ে গেছে অনেকগুলোই। যে কয়টা বেচে আছে, তারা চলছে লাইফের শেষ পর্যায়ে। এক সাংবাদিক বড় ভাই বলেছিলেন বাংলাদেশের বর্তমানে চলা ৯৯% ট্যাবলয়েড পত্রিকাগুলো চলে এখন ভর্তুকি দিয়ে। ছাপাখানার টাকা আর কাগজের দামই এখন উঠাতে হিমসিম খেতে হয়। এখন পত্রিকা রাখা মানে একটা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা।

শুধু পত্রিকা নয়, প্রায় প্রতিটি সেক্টরেই এসেছে পরিবর্তনের ছোয়া। ইলেক্ট্রনিক্স আর গ্যাজেটগুলো চলে গিয়েছে অনলাইনে। এমননি আলু, পটল, কাচা বাজারও এখন অনলাইনের ইকমার্স সাইটে পাওয়া যায়। অর্ডার দিলে চলে আসে বাড়িতে হোম ডেলিভারী। ঢাকায় চলছে পাঠাও, উবার এর মতন অ্যাপ ভিত্তিক রাইড শেরাইং সার্ভিস। কোথাও যাবেন? মোবাইল বের করে ট্যাক্সি বুক করলে কিছুক্ষনের মধ্যে চলে আসছে আপনার সামনে। দোকানপাট, কর্পোরেট অফিসগুলোও বসে নেই। তারাও নিজেদের পরিবর্তন করে ডিজিটালাইজড করতেছে। ধিরে ধিরে প্রায় প্রতিটি দোকানেই এখন হিসাব নিকাশের জন্য ব্যবহার শুরু করতেছে একাউন্টিং বা সেলস ইআরপি সফটওয়্যার। কর্পোরেট অফিসগুলোতেও চলে এসেছে অনলাইন ভিত্তিক অফিস ম্যানেজমেন্ট, একাউন্টিং বা ইনভেন্টরী সফটওয়্যার। পৃথিবীর যেকোন প্রান্তেই বসে থেকে এখন অফিসের হিসেব নিকেশ দেখা যাবে এই সব সফটওয়্যারের মাধ্যমে।

আর এই সব কিছুর মূলেই আছে ডোমেইন হোস্টিং সার্ভিস। কি মজা না? অনলাইন নিউজ পেপার বানাবেন? আপনার ডোমেইন হোস্টিং দরকার। দোকানের জন্য ইআরপি সফটওয়্যার অনলাইনে রাখবেন? আপনার ডোমেইন হোস্টিং দরকার। কোন অফিসের জন্য ওয়েবসাইট বানাবেন? আপনার ডোমেইন হোস্টিং দরকার। অফিস ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার নেবেন? আপনার ডোমেইন হোস্টিং দরকার। আপনি ব্যবহার জন্য কর্পোরেট মেইল ইউজ করবেন? আপনার ডোমেইন হোস্টিং দরকার। আপনার পাঠাও বা উবারের মত অ্যাপ চালাবেন? এইটাও নিয়ন্ত্রন হচ্ছে একটা অনলাইন সার্ভার থেকে। অনলাইন ভিত্তিক প্রায় সব সার্ভিস ইউজ করতেই মূলে আছে ডমেইন হোস্টিং এর ব্যাপার। প্রথমে আপনার কাছেই আসতে হবে।

তো কি শুরু করতে চাচ্ছেন আপনার নিজেস্ব্য ডোমেইন হোস্টিং ব্যবসা? কিন্তু শুরু করবেন কোথায় থেকে? কিভাবে? কত টাকা ইনভেস্ট করতে হতে পারে? কি কি জানা থাকতে হয়? কারা আপনার ক্রেতা এমন অনেক কিছুই নিয়ে থাকছে আজকের এই পোস্টটি।

ভূমিকাই এত বড় দিয়ে ফেললাম, ভাবছি পুরো পোস্টটি তাহলে কত বড় হবে। তবে কথা দিচ্ছি ডোমেইন হোস্টিং ব্যবসা নিয়ে একটা মেগা পোস্ট আপনাদের উপহার দেব।

 

কিভাবে শুরু করবেন আপনার হোস্টিং ব্যবসা?


start-your-hosting-business

আপনি যদি হোস্টিং ব্যবসা শুরু করতে চান তবে তা কয়েকটা বিষয়ের উপর নির্ভর করতেছে কিভাবে আপনি শুরু করবেন। ১নাম্বার হচ্ছে আপনার বাজেট আর ২ নাম্বার হচ্ছে আপনার বিজনেস প্লানিং। আপনার যদি একেবারে লো বাজেট হয় তাহলে রিসেলার নিয়ে শুরু করতে পারেন। আবার যদি ভাল বাজেট নিয়ে আগাতে চান তবে ভিপিএস বা ডেডিকেটেড সার্ভার নিয়ে শুরু করতে পারেন। আপনার বিজনেস প্লান যদি এমন হয় ধিরে ধিরে কাস্টোমার এচিপ হবে তবে রিসেলার নিয়ে শুরু করতে পারেন। যদি এমন প্লানিং করে আগামী ৬ মাসের মধ্যে কোম্পানী ইস্টাব্লিশড হয়ে যাবে এবং অনেক কাস্টোমার এচিপ করবেন তবে অবশ্যই ভিপিএস বা ডেডিকেটেড। নিচে রিসেলার, ভিপিএস ও ডেডিকেটেড সার্ভার নিয়ে আরো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরলাম-

 

রিসেলার হোস্টিংঃ

Reseller Hosting

সর্বনিম্ন খরচে শুরু করতে রিসেলার হোস্টিং এর বিকল্প নাই। আপনি রিসেলার হোস্টিং নিলে পাচ্ছেন whm নামে একটা কন্ট্রোল প্যানেল। যেখান থেকে আপনি আপনার নিজেস্ব্য হোস্টিং প্যাকেজ ও প্লান বানাতে পারবেন। আপনার তৈরীকৃত প্যাকেজের আন্ডারে আপনার কাস্টোমারের জন্য সিপ্যানেল একাউন্ট ক্রিয়েট করতে পারবেন। একাউন্ট এর একাউন্ট ম্যানেজ করতে পারবেন। সাসপেন্ড-আনসাসপেন্ড করতে পারবেন। আপনার ক্লায়েন্ট এর যেকোন সিপ্যানেল একাউন্টে ঢুকতে পারবেন, তাদের সাপোর্ট দিতে পারবেন। মুটামুটি হোস্টিং ব্যবসা শুরু যা কিছু লাগে এখানে পাবেন আপনি। একটা রিসেলার হোস্টিং স্টার্টিং প্যাকেজ নিতে আপনার খরচ হবে ৫ জিবি রিসেলার প্যাকেজের জন্য ৫০০০ টাকা বছরে। ১০ জিবি রিসেলার প্যাকেজ ৮০০০ টাকা বছরে। অর্থ্যৎ প্যাকেজ যত বড় হবে জিবি প্রতি আপনার খরচ তত কম হবে। বিস্তারিত ধারনার জন্য আপনি আমাদের রিসেলার হোস্টিং প্রাইস ও প্যাকেজ গুলো এখানে চেক করতে পারেন।

রিসেলার হোস্টিং এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো কম খরচ, টেকনিকাল নলেজ খুব একটা না থাকলেও চলে। কারন সার্ভার বা হোস্টিং ম্যানেজমেন্ট এর দায়িত্ব্য থাকে আপস্ট্রিম প্রোভাইডারের উপরে।

আপনি একটা রিসেলার হোস্টিং নিয়ে আপনার নিজের মত করে হোস্টিং প্যাকেজ বানিয়ে নিজের কোম্পানীর নামে সেল করতে পারবেন। এখন কথা হচ্ছে এতে প্রফিট কি রকম হবে? ধরে আপনি ৫ জিবির প্যাকেজ নিয়ে স্টার্ট করলেন যেটার দাম ৫০০০ টাকা। ১ বছরের জন্য আপনার হোস্টিং বিক্রির ব্যবস্থা রেডি। আপনি ১ জিবি থেকে ৫ জিবি পর্যন্ত প্যাকেজ বানিয়ে এখান থেকে সেল করতে পারবেন। আমাদের ১ জিবি এর খুচরা কাস্টোমারদের জন্য প্রাইস রাখি ১৫০০ টাকা করে বছরে। আপনি যদি ১০০০ টাকা করেও রাখেন তবে মাত্র ৫ জনের কাছে সেল করতে পারলেই আপনার পুরো খরচ উঠে আসতেছে। এরপরে আপনি যা সেল করবেন পুরোটাই প্রফিট।

ওভারসেলিং কি?

ওভারসেলিং হলো আপনি ৫ জিবি রিসেলার হোস্টিং কিনে ১০জিবি-২০জিবি সেল করতে পারবেন। ব্যপারটা আরো একটু পরিষ্কার করে বলি। ধরেন আপনি ৫জিবি রিসেলার নিয়ে ১জিবি করে টোটাল ৫টা একাউন্ট সেল করলেন। ৫টা একাউন্ট এর একজন ব্যবহার করলো ২০০ এমবি, ২জন ৫০ এমবি আর ২জন ৫০০ এমবি করে। তাহলে টোটাল আপনার ব্যবহার হলো ১৩০০ এমবি। অর্থ্যাৎ আপনার ৫ জিবি এর মধ্যে এখনো ৩৭০০ এমবি ফাকাই আছে। আপনি এই ৩৭০০ এমবি শেষ হওয়া পর্যন্ত আপনার প্যাকেজগুলো সেল করা চালিয়ে যেতে পারবেন। এইটাই মুলত ওভারসেলিং।

 

ভিপিএস হোস্টিংঃ

VPS Hosting

ভিপিএস এর পুরো শব্দ ভার্চুয়াল প্রাইভেট সার্ভার। এইটা অনেকটা মেইন সার্ভারের মত আচরন করবে, কিন্তু ভার্চুয়াল সার্ভার। অর্থ্যাৎ একটা ডেডিকেটেড  সার্ভারকে ভার্চুয়ালী ভাগ করে ভার্চুয়াল সার্ভার বানানো হয়। এইটার খরচ রিসেলার এর থেকে বেশি। কারনে আপনি যখন ভিপিএস নেবেন তখন হোস্টিং বানাতে বা ওয়েবসাইট চালানোর মত বা হোস্টিং বিক্রি করার মত উপযোগী করতে যাবতীয় উপকরন আপনাকে আলাদা ভাবে কিনতে হবে। কিছুই বোঝেন নাই তাই তো? বুঝিয়ে বলছি- আগেই বলেছি ভিপিএস হচ্ছে অনেকটা অরিজিনাল সার্ভারের মত। আপনি এটাকে আপনার কমপিউটারের সাথে তুলনা করতে পারেন। আপনি যখন একটা কমপিউটার কেনেন তখন এর মধ্যে কোন অপারেটিং সেটআপ করা থাকে না, কোন সফটওয়্যার বা কিছুই সেটআপ থাকে না। এইটা তখন শুধুই একটা হার্ডওয়্যার। আপনি যখন ভিপিএস নেবেন তখন আপনি ভিপিএস প্রোভাইডারের কাছে থেকে পাবেন শুধু একটা রুট আইপি আর কনসোলে লগইন করার জন্য একটা পাসওয়ার্ড। এইটার সাহায্যে আপনাকে কন্সোলে লগইন করে কমাল্ড লাইন ব্যবহার করে সিপ্যানেলসহ ওয়েবসাইট চালাতে যা কিছু লাগে সব সেটআপ করে ওয়েবসাইট হোস্ট এর জন্য উপযোগী করে তুলতে হবে।
ওয়েট, আপনার যদি এত কিছু জানা না থাকার ভয় পাবার কিছু নাই। প্রায় প্রতিটি হোস্টিং কোম্পানীই ম্যানেজড ভিপিএস সেল করে থাকে। ম্যানেজড ভিপিএস হচ্ছে আপনার হোস্টিং রেডি করতে যা কিছু সেটআপ করা লাগে সেটা তারাই করে দেবে এবং পরবর্তিতেও যেকোন কিছু সেটআপ বা কনফিগার করতে তারা আপনাকে সাহায্য করবে।
এখন আসি ভিপিএস এর খরচের হিসাবে। প্রথমেই আপনি আমাদের এসএসডি ভিপিএস প্যাকেজ গুলো চেক করে নিন।

এখানে লিস্টেড ভিপিএস এর মধ্যে মুটামুটি শেয়ার্ড হোস্টিং সেল করার উপযোগী প্যাকেজ বলা যেতে পারে ভিপিএস প্লান #৪। অর্থ্যাৎ

  • ৪ কোর সিপিইউ
  • ৪ জিবি র‍্যাম
  • ১৩৫ জিবি এসএসডি ডিস্কস্পেস
  • ৫০০০ জিবি ব্যান্ডউইথ
  • ১টি ডেডিকেটেড আইপি

যখন আপনি শেয়ার্ড হোস্টিং সেল করার জন্য ভিপিএস কনফিগ করবেন তখন একেবারে লোক কনফিগ নিয়ে চালাতে পারবেন না। মানে হচ্ছে যখন অনেক সাইট আপনার সার্ভারে তখন আপনার প্রসেসর ও র‍্যাম ইউজেসও হবে বেশি। আমি আপনাকে এই প্লান ৪ প্যাকেজ দিয়ে একটা আইডিয়া দিচ্ছি-

এই প্যাকেজটার দাম আমাদের মাসে ৪০০০ টাকা। এইটা পুরোটাই রো সার্ভার। এইটাকে শেয়ার্ড হোস্টিং বিক্রির উপযোগী করতে এর সাথে আপনার লাগবে সিপ্যানেল যার মাসিক খরচ ১২০০ টাকা (ভিপিএস এর জন্য)
টোটাল ৪০০০+১২০০ = ৫২০০ টাকা মাসিক। এই খরচ হলেই মুটামুটি আপনি এই ভিপিএস দিয়ে ব্যবসা শুরু করতে পারবেন। তবে এইটাকে আরো ব্যবহার উপযোগী করতে এর সাথে আরো সার্ভিস অ্যাড করা প্রয়োজন।
যেমনঃ

ক্লাউডলিনাক্সঃ এটি আপনার সিপ্যানেল একাউন্টগুলোকে খাচারমত করে বেধে ফেলবে। অর্থ্যাৎ একাউন্ট লিমিটেশন, একাউন্ট সিকিউরিটি এই সব কিছুর জন্য ক্লাউডলিনাক্স নেয়া আবশ্যিক। এইটা ছাড়া যেকোন একাউন্টই ওভার সিপিইউ, র‍্যাম ইউজেস করে ফেলতে পারবে। তাই সার্ভারের লোড বাড়বে, একটা সাইট হ্যাক হলে পুরো সার্ভার হ্যাক হতে পারে। এরকম অনেক ইস্যু আছে যেটা ক্লাউডলিনাক্স না থাকলে আপনাকে ফেস করতে হতে পারে। এইটার মান্থলী খরচ ১২০০ টাকা।

সফটাকুলাসঃ এইটা হচ্ছে অটো ওয়েবসাইট ইন্সটলার সিপ্যানেল অ্যাডঅন। কয়েকটা ক্লিকের ওয়ার্ডপ্রেস, জুমলা, ওপেনকার্ট সহ জনপ্রিয় স্ক্রিপ্ট গুলো সহজেই সিপ্যানেলে ইন্সটল করতে পারবে। এইটার মাসিক খরচ ২৫০ টাকা।

ব্যাকআপ সার্ভিসঃ পুরো ভিপিএস যদি হ্যাক হয় বা যদি ভিপিএস ক্রাশ করে। সাইটগুলো রিকভার করবেন কিভাবে? হোস্টিং ব্যবসা করতে গেলে অবশ্যই আগে এই দিক নিয়ে সিকিউর থাকতে হবে। ভিপিএস এ যতরকম সিকিউরিটি সিস্টেমই অ্যাড করেন না কেনো ১০০% সিকিউরিটি গ্যারান্টি কোনভাবেই পাবেন না। সুতরাং এই ধরনের ডিজাস্টার এর জন্যেও সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। অন্যথায় যদি কোন ব্যাকআপ ব্যবস্থা না রাখেন এবং দুঃর্ভাগ্যক্রমে এই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুক্ষিন হন তবে ক্লায়েন্ট এর সাইটগুলো আর ফেরত দিতে পারবেন না। শেষপর্যন্ত হয়তো কোম্পানী বন্ধ করে ভাগতে হবে।
ব্যাকআপ নেবার জন্য রিমোটলী আরো একটি সার্ভারের দরকার। এইটা একেবারে লো কনফিগের সার্ভার হলেও সমস্যা নাই। এই ধরনের কনফিগ দিয়ে ৫০০ জিবি স্টোরেজ এর একটা সার্ভারের খরচ আসবে আপনার মাসে ১২০০ টাকা। সিপ্যানেল এর ডিফল্ট ব্যাকআপ সিস্টেম ব্যবহার করে অটোমেটিক প্রতিদিন সবগুলো সাইটের ব্যাকআপ আপনার রিমোট সার্ভারে পাঠাতে পারবেন। আর যদি ক্লায়েন্টকে ব্যাকআপ এর এক্সেস দিতে চান ও উন্নত ব্যাকআপ ব্যবস্থা চান তাহলে আপনাকে থার্ডপার্টি সিপানেল ব্যাকআপ টুলস ব্যবহার করতে হবে। এই ক্ষেত্রে একটা ভাল সিপ্যানেল মডিউল বা টুলস হচ্ছে জিকে রুট এর রিস্টোর ম্যানেজার। যার মাসিক খরচ আসবে ৩০০ টাকা। অর্থ্যাৎ ব্যাকআপ সার্ভার ও ব্যাকআপ মডিউল সহ আপনার খরচ পড়বে ১৫০০ টাকা মাসে।

 

এছাড়াও আনুষাজ্ঞিক এরকম অনেক মডিউল ও টুলস আছে। যার কিছু ফ্রী আবার কিছু পেইড। এইটা আপনার প্রয়োজন অনুসারে সিপ্যানেলে ইন্সটল ও কনফিগ করে নিতে পারবেন।

ভিপিএস ব্যবহারের সুবিধাঃ

১। হোস্টিং ব্যবহারের পুর্ন স্বাধীনতা পাওয়া যায়। ফুল সার্ভার এক্সেস পাওয়ায় কাস্টোমারদের সাপোর্ট দিতে সুবিধা হয়। হোস্টিং যেকোন সমস্যা নিজেই চেক করা ও ফিক্স করা যায়। রিসেলার হোস্টিং এর ক্ষেত্রে এইটা সার্ভার এডমিন বা আপস্ট্রিম প্রোভাইডারের উপর নির্ভরশীল হয়ে থাকতে হয়।

২। নিজের মত করে সার্ভার কনফিগ করে নেয়া যায়। নিজের প্রয়োজন মত লিমিট সেট করা যায়।

৩। রিসেলার হোস্টিং সেল করা যায়। চাইলে সার্ভারে এডিশনাল প্লাগইন অ্যাড করে মাস্টার রিসেলার বা আলফা রিসেলারও সেল করতে পারবেন।

৪। নিজের সার্ভার হওয়ায় এখানে অনেকটা স্বাধীন। আপস্ট্রিম প্রোভাইডার খবরদারী কম করে। কোন কাস্টোমারকে কি পরিমান সুযোগ সুবিধা দেবেন, কি পরিমান লোড এলাও করবেন এইটা আপনার উপরে নির্ভর করতেছে। কেননা কোন সাইট যদি হাই লোড এর হয় তবে এর প্রভাব পুরো সার্ভার পার্ফমেন্স এর উপরে পড়ে। রিসেলার হোস্টিং এর ক্ষেত্রে কোন সাইটে হাই লোড হলে আপস্ট্রিম প্রোভাইডার ঐ সাইটকে এলাও করবে না। ভিপিএস হলে এইটা আপনার বিষয় আপনি কোন সাইটকে করবেন আর কোন সাইটকে করবেন না।

 

ডেডিকেটেড সার্ভারঃ

Dedicated Server

নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এখানে পুরো সার্ভার এর সুবিধা আপনার। অর্থ্যাৎ একটা সার্ভার পুরোটাই আপনার জন্য নিবেদিত। বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা ভিপিএস এর মতই। কিন্তু পার্ফমেন্স ভিপিএস থেকে অনেক ভাল। কেননা ভিপিএস হচ্ছে ভার্চুয়াল সার্ভার এবং একটা ডেডিকেটেড সার্ভার থেকে অনেকগুলো ভিপিএস বের করা হয়। আর ডেডিকেটেড সার্ভার এর পুরো ফিজিকাল সার্ভারটাই আপনি একাই ব্যবহার করছেন।

কিছুটা বড় আকারে বিজনেস শুরু করতে চাইলে ডেডিকেটেড সার্ভার নেয়াই বেটার। ডেডিকেটেড সার্ভারের সুবিধাগুলো হলো-

১। অনেক কাস্টোমার এর একাউন্ট হোস্ট করতে পারবেন।

২। নিজের মতন সার্ভার কনফিগারেশন সাজাতে পারবেন।

৩। নিজের মতন লিমিট সেট করবেন।

৪। ফুল রুট লেভেল এক্সেস থাকবে। আপনার উপরে খবরদারি করার কেউ নাই।

৫। রুট এক্সেস থাকায় হোস্টিং এর যে কোন সমস্যা নিজেই ঠিক করে দিতে পারবেন (যদি হার্ডওয়্যারগত সমস্যা বা নেটওয়ার্কগত সমস্যা না থাকে)। আপনাকে আপ্সট্রিম প্রোভাইডারের উপরে নির্ভর করে থাকতে হবে না।

 

এখানে আপনি বুঝতেই পারছেন ডেডিকেটেড সার্ভার ম্যানেজড করতে আপনার টেকনিক্যাল জ্ঞান থাকাটা জরুরী অথবা আপনাকে কোন সার্ভার এডমিনিস্ট্রেটর বা সার্ভার ইঞ্জিনিয়ার হায়ার করে রাখতে হবে যে সব কিছু সেটাপ করবে এবং পরবর্তি যেকোন সমস্যা দেখভাল করবে। বিভিন্ন কোম্পানী ম্যানেজড ডেডিকেটেড সার্ভারও অফার করে। আপনি চাইলে এগুলোও নিতে পারেন। এই ক্ষেত্রে দেখভাল এর দায়িত্বও ঐ কোম্পানীর।

এখন আসি খরচ এর ব্যাপারে, প্রথমেই আপনি আমাদের ডেডিকেটেড সার্ভারের প্যাকেজ গুলো চেক করে নিন। আমাদের প্রথম প্যাকেজ Intel Xeon E3-1230v3 এইটা নিয়ে আলোচনা করি।এই সার্ভারটা নিয়ে যদি হোস্টিং সাজানো যায় তবে কি রকম খরচ পরতে পারে?
এই সার্ভারটার খরচ আসবে ৮৮০০ টাকা মাসে। এর সাথে সিপ্যানেল লাগবে ৩ হাজার টাকা মাসে (ডেডিকেটেড সার্ভারের জন্য সিপ্যানেল এর দাম ভিপিএস এর সিপ্যানেল এর তুলনায় বেশি)। মানে ১১৮০০ টাকা হলেই মুটামুটি বিজনেস শুরু করা যাচ্ছে এইটা দিয়ে। তবে এর সাথে এডিশনাল আরো খরচ আসতে পারে ক্লাউড লিনাক্স, সফটাকুলাস, ব্যাকআপ সার্ভার, লাইটস্পীড ও আনুষাজ্ঞিক আরো কিছু যদি আপনি সার্ভারে সুযোগ সুবিধা দেন। এগুলোর খরচ মুটামুটি ভিপিএস এর মতই। তাই আর আলাদাভাবে আলোচনা করলাম না।

 

আনলিমিটেড হোস্টিং প্লান ও বিগ সিক্রেটঃ

এতক্ষনে নিশ্চয় বুঝে গেছেন যে আসলে আনলিমিটেড হোস্টিং বলে কিছু নাই। এই সবই মার্কেটিং স্ট্যান্ড। সব হোস্টিং ই আসে এই রকম একটা ডেডিকেটেড সার্ভার থেকে। আপনি আনলিমিটেড হার্ড ডিস্ক বা এসএসডি স্টোরেজ কোথাও পাবেন না। তাহলে বিভিন্ন কোম্পানীগুলো যে আনলিমিটেড হোস্টিং অফার করছে! এখানেই আছে বিগ সিক্রেট। আসলে আনলিমিটেড হোস্টিং প্যাকেজগুলো হোস্টিং কোম্পানীগুলোর জন্যেও বেশ প্রফিটেবল হোস্টিং প্লান। আমি ৫০০ জিবি হার্ড ডিস্ক এর একটা সার্ভারকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে হিসেব করি, ধরেন এই সার্ভারে আনলিমিটেড প্যাকেজ হোস্ট করা আছে ১০০ টা সিপ্যানেল একাউন্ট। আপনি মুটামুটি শিওর থাকতে পারেন এর মধ্যে ৮০% একাউন্টই ৫০০ এমবি থেকে ১জিবির উপরে স্পেস ইউজ হবে না। অথচ আনলিমিটেড হোস্টিং হিসেবে দাম রাখতেছি আমরা ৪-৫ হাজার টাকা প্রতি হোস্টিং এর। বাকি ২০% একাউন্টও ১০-২০ জিবি এর উপরে স্পেস ইউজ করতে পারবে না। আনলিমিটেড হোস্টিং গুলোতে স্পেস ও ব্যান্ডউইথ এর লিমিটেশন না থাকলেও লিমিট করা থাকে সিপিইউ ও র‍্যাম ইউজেস। এর সাথে আরো লিমিট থাকে Disk I/O ইউজেস। কোন সাইট যদি বড় হয় হয় অনেক পোস্ট সংখ্য হয় তবে তার সিপিইউ ও র‍্যাম ইউজেস বাড়তে থাকবে। তখন তার শেয়ার্ড হোস্টিং এ থাকা অনুপযোগী হয়ে পড়বে। মুটামুটি ধরে রাখতে পারেন ১০-২০ জিবি ইউজ করার আগেই এই সাইটকে ভিপিএস এ ট্রান্সফার করতে হবে। সাইট যদি খুব ভাল অপটিমাইজড করা হয় তবুও সেটা ৩০-৪০ জিবির এর উপরে যাবার আগেই রিসোর্স ইউজেস অনেক বেড়ে যাবে। আর ২/১ টা সাইট যদি ৩০-৪০ জিবি ইউজ করেই তবে ক্ষতি কোথায়। অন্যান্য সাইট থেকে খরচ গড়ে ঠিকই উঠে আসতেছে।
খুব জটিল করে ফেললাম কি? আর একটু ক্লিয়ার করি, প্রায় প্রতিটি হোস্টিং কোম্পানীই সিপিইউ ও র‍্যাম ইউজেস লিমিটেশন দেয়। একটা সিপ্যানেল এর জন্য নর্মালী ১ কোর সিপিইউ ও ১ জিবি র‍্যাম লিমিট দেয়া থাকে। কোম্পানী ভেদে সেটা ৫১২ এমবি র‍্যাম লিমিটও হতে পারে (গোড্যাডি)। এরপরেও এই লিমিট এর ২৫% ইউজ করার অনুমতি টার্মস এন্ড কন্ডিশনে দেয়া থাকে। তার মানে হচ্ছে ১ জিবি র‍্যাম এর ২৫% ২৫৬ এমবি। এর বেশি কেউ যদি ৩০ সেকেন্ড ধরে টানা ইউজ করে তবে সেই সাইট ওভার লোডেড। কোন সাইটে যদি ভিজিটর বেশি আসে বা এট এ টাইম অনেক বেশি ভিজিটর অনলাইনে থাকে তবে ঐ একাউন্ট এর র‍্যাম সিপিইউ ইউজসেস বেশি হবে। আবার কোন সাইটে অনেক বেশি কন্টেন্ট বা পোস্ট থাকা মানে অনেক বেশি ভিজিটর ঐ সাইটে আসবে। সাইট ওউনারের ইনকামও ঐ সাইট থেকে বেশি হবে। সেই ক্ষেত্রে তারপক্ষেও ভিপিএস বা ডেডিকেটেড সার্ভারের খরচ বহন করা খুব একটা কঠিন হবে না। উদাহরন স্বরুপ বলতে পারি আমাদের দেশের প্রথম আলো বা যুগান্তর নিউজ পেপার এর অনলাইন সাইট। এদের লোড এত বেশি যে এরা একটা সাইটকে কয়েকটা সার্ভারে লোড ব্যালেন্সিং করা হোস্ট করে এবং মাসে ১-২ লক্ষ টাকা সার্ভার বীল দেয়।
সুতরাং বুঝতেই পারছেন আনলিমিটেড হোস্টিং এ হোস্টিং প্রোভাইডারের লসের থেকে লাভই বেশি হয়। যেখানে আমরা ১জিবি হোস্টিং প্যাকেজ বানিয়ে বিক্রি করি বছরে ১৫০০ টাকা যেখানে আনলিমিটেড নাম দিয়ে সেম হোস্টিং বিক্রি করতে পারি ৪-৫ হাজার টাকায়। আবার সাইটগুলো হোস্ট করা যাবে এখানেও থাকে লিমিট। প্রাইমারী প্যাকেযে সাধারনত ১টা সাইট লিমিট দেয়া থাকে। এরপরের প্যাকে ৩-৫টা। এর দাম আরো বেশি। সিপ্যানেল রিসোর্স ইউজেস লিমিট প্রায় সেম।

 

ডোমেইন রিসেলারঃ

DOmain Reseller

হোস্টিং তো বেচার ব্যবস্থা হলো, এবার ডোমেইন বেচার জন্য কি করবেন? এর জন্য আপনাকে নিতে হবে ডোমেইন রিসেলার সার্ভিস। আপনি আমাদের কাছে থেকে ডোমেইন রিসেলার নিলে পাবেন একটি ডোমেইন রিসেলার প্যানেল, সুপার সাইট ও পার্টনার সাইট। সুপার সাইট হচ্ছে এমন একটি সাইট যেটা ডোমেইন রিসেলার এক্টিভেট হবার সাথে সাথেই অটো তৈরী হয়ে যাবে। পরবর্তিতে আপনার রিসেলার কন্ট্রোলপ্যানেল থেকে এই সাইটটি প্রয়োজন মত কাস্টোমাইজ করে নিয়ে আপনার ব্রান্ডিং ইন্টিগ্রেড করতে পারবেন (আমাদের ডেমো সুপার সাইটের এক্সামপল)। এই সাইট থেকে আপনার কাস্টোমার ডোমেইন সার্চ দিয়ে অর্ডার করতে পারবে এবং এই অর্ডার আপনার রিসেলার কন্ট্রোল প্যানেল থেকে এক্টিভেট করে দিতে পারবেন। ডোমেইন রেজিস্টার এর জন্য অবশ্যই আপনাকে আগে থেকেই রিসেলার প্যানেলে ফান্ড ডিপোজিট করে রাখতে হবে। যখন কোন ডোমেইন এক্টিভ করবেন তখন এই ডিপোজিট করা ফান্ড থেকে ডোমেইন এর মুল্য কেটে নেয়া হবে। এই সুপারসাইট থেকেই আপনার কাস্টোমার তাদের নিজ নিজ একাউন্টে লগইন করে তাদের ডমেইন ম্যানেজ করতে পারবে। অর্থ্যাৎ তাদের জন্যেও থাকতেছে কন্ট্রোলপ্যানেল।

ফ্রী ডোমেইন সুপার সাইট

ফ্রী ডোমেইন সুপার সাইট

 

ডট কম ডোমেইন এর ক্ষেত্রে আপনার রিসেলার প্রাইস পরবে ৭৫০ টাকা, যেইটা আমরা খুচরা বিক্রি করি ৮৫০ টাকা করে। আপনার হয়তো মনে হতে পারে রিসেলার নিয়ে এত কম প্রফিট কেনো। আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন বিশ্বের কোন প্রোভাইডারই ডোমেইন বিক্রি করে আহামরি প্রফিট করে না (যদিও আপনি ৮৫০ টাকা না নিয়ে আরো বেশি প্রাইস রাখতে পারেন। অনেক কোম্পানীই এখন ডট কম ডোমেইন এর প্রাইস রাখে বছরে ১২০০ টাকা করে)। এইটার প্রফিট নির্ভর করে কোয়ান্টিটির উপরে। আপনি যত বেশি ডোমেইন সেল করতে পারবেন। মোটের উপরে আপনার প্রফিট ততবেশি হবে। বাহিরের কোম্পানী যারা ১ ডলার/২ ডলারে ডোমেইন সেল করা এরাও প্রথম বছর ভর্তুকি দিয়ে ডোমেইন দেয় কাস্টোমার পাবার জন্য এবং পরবর্তি বছর থেকে এইটা উসুল করে নেয়। আর বাহিরের কোম্পানীগুলোতে যেসব কাস্টোমার কেনে, এদের অধিকাংশই পরবর্তি বছর রিনিউ করে। শুধু তাই নয়, যারা ডোমেইন কেনে এর সাথে সাথে অনেক ধরনের অ্যাডঅন সার্ভিসও কেনে। যেমন হোস্টিং, ওয়েবসাইট ব্যাকআপ সার্ভিস, ওয়েবসাইট বিল্ডার, বিজনেস মেইল, ডোমেইন প্রাইভেসী প্রোটেকশন। সুতরাং ধরে নিতে পারেন এইটা একটা খুব ভাল মার্কেটিং টেকনিক নতুন কাস্টোমার পাবার জন্য।

যাইহোক, ডোমেইন রিসেলার নিলে এখানে আপনি প্রায় ৫০০+ টিএলডি (ডোমেইন এক্সটেনশন) পাবেন বিক্রি করার জন্য। এবং প্রতি নিয়তই অসংখ্য প্রমো অফার পাবেন ডোমেইন এর। প্রায় প্রতি মাসেই ৫০-১০০ টা ডোমেইন এক্সটেনশনের উপরে অফার থাকে। যেগুলো আপনিও কম প্রাইসে কাস্টোমারদের অফার করতে পারেন অথবা রেগুলার প্রাইসেই বিক্রি করে বেশি প্রফিট করতে পারেন। ডোমেইন রিসেলার কন্ট্রোলপ্যানেল থেকে আপনার সকল কাস্টোমারের ডোমেইন ম্যানেজ করতে পারবেন। চাইলে সাস্পেন্ড আনসাসপেন্ড করতে পারবেন। ডোমেইন এর কাস্টোমার একাউন্ট ম্যানেজড করতে পারবেন।

এছাড়াও আছে API সিস্টেম। আপনি যদি whmcs অথবা অন্য কোন ধরনের বিলিং সফটওয়্যার ব্যবহার করেন তবে এই API এর মাধ্যমে আপনার ঐ বিলিং পোর্টালের সাথে এই ডোমেইন রিসেলারকে কানেক্ট করতে পারবেন এবং ঐ সফটওয়্যার থেকেই ডোমেইন হোস্টিং দুইটাই ম্যানেজ করতে পারবেন।

 

বিজনেস সেটআপ ও ওয়েবসাইটঃ


ডোমেইন হোস্টিং বিজনেস সেটআপের প্রথমেই আছে কোথায় থেকে আপনি ডোমেইন হোস্টিং সেল করবেন এইটা ঠিক করা। উপরে আমি অলরেডি এই বিষয়গুলোর উপরে আলোচনা করেছি। আপনার বাজেট ও কর্মপরিকল্পনার উপর ভিত্তি করে আপনি এখন ঠিক করে নিতে পারবেন কোনটা আপনার জন্য পার্ফেক্ট হবে। এর পরের স্টেপে আছে কর্পোরেট ওয়েবসাইট, যেখানে আপনার ডোমেইন হোস্টিং এর প্যাকেজ বা মুল্যতালিকা দেখানো হবে। আপনি যদি নিজেই ওয়েবসাইট বানাতে পারেন তাহলে এর জন্য আলাদাভাবে কোন খরচ লাগবে না। ওয়েবসাইট বানাতে যদি প্রিমিয়াম টেমপ্লেট কিনতে চান তাহলে এর জন্য ৫ হাজার টাকার মত খরচ লাগতে পারে ওয়ার্ডপ্রেস টেমপ্লেট এর জন্য। আর HTML টেমপ্লেট এর জন্য ২ থেকে ৫ হাজার টাকা। যদি আপনি ওয়েবসাইট বানাতে না পারেন তবে ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে আপনার খরচ হতে পারে ১০-৩০ হাজার টাকা।
কর্পোরেট ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে আইক্যাচিং হওয়াটা খুবই গুরুত্বপুর্ন, যেন প্রথম দর্শনেই আপনার প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনার কাস্টোমারের আস্থা তৈরী হয়। সেই সাথে সিকিউরিটির দিকটাও দেখতে হবে। কোনভাবেই ক্রাক থিম বা প্লাগইন ব্যবহার করে যাবে না। প্রয়োজনে ডাইরেক্টরীর ফ্রী থিম ইউজ করুন।

এছাড়াও বিজনেস সেটআপের মধ্যে আছে অফিস সেটআপ, কর্মচারী নিয়োগ ইত্যাদি। প্রথমিক অবস্থায় আপনি চাইলে আপনার বাসা থেকেই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন এবং নিজে সব ম্যানেজ করতে পারেন। তবে বড়ভাবে বিজনেস শুরু করতে গেলে একটা অফিস স্পেস নেয়া অনেক জরুরী। অফিস স্পেস সাইজ এর উপর ভিত্তি করে ও লোকেশন (ঢাকা জেলার বাহিরে) মাসে ৬-১৫ হাজার টাকা ভাড়া হতে পারে। লোকেশনের উপর ভিত্তি করে আরো কম ভাড়াতেও পেতে পারেন। কর্মচারী নিয়োগ এর ক্ষেত্রে জন প্রতি আপনার ৬-২০ হাজার টাকা স্যালারী দিতে হতে পারে।

 

ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট ও বিলিং সফটওয়্যারঃ

এর পরের স্টেপ হচ্ছে ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট ও বিলিং সফটওয়্যার সেটআপ। প্রাথমিক অবস্থায় সব কিছু আপনি মেনুয়ালী হ্যান্ডেল করতে পারবেন। আপনার একটা হোস্টিং রিসেলার হলেই whm প্যানেল থেকে আপনার কাস্টোমারের জন্য সিপ্যানেল একাউন্ট ক্রিয়েট করতে পারবেন। ডোমেইন বিক্রির জন্য থাকছে ডোমেইন রিসেলার কনট্রোল প্যানেল ও কাস্টোমারদের অর্ডার করার প্যানেল, আপনার প্যাকেজ ও প্রাইসিং ডিসপ্লে করার জন্য ওয়েবসাইট। কিন্তু আপনার কাস্টোমার হ্যান্ডেল করতে হচ্ছে মেনুয়ালী। যেমন WHM থেকে সিপ্যানেল একাউন্ট ক্রিয়েট করে আপনাকে মেনুয়ালী ক্লায়েন্ট কে মেইল করে আইডি পাসওয়ার্ড পাঠাতে হচ্ছে। পরবর্তি বছরে বা পরবর্তি মাসে বীল নেবার সময় আবার মেনুয়ালী তাদেরকে মেইল করতে হবে। প্রাথমিক অবস্থায় এগুলো করা সহজ হলেও যতই কাস্টোমার বাড়বে ততই এই কাজগুলো কঠিন হয়ে পরবে। এই কাজ গুলোকে সহজ করে দেবার জন্যেই আছে হোস্টিং বিলিং ও ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার, যা অটোমেশনের মাধ্যমে আপনার পুরো প্রকৃয়াকে সহজ করে দেবে। এই প্যানেল এর সাথে whm, ডোমেইন প্যানেল API সিস্টেম এর মাধ্যমে কানেক্টেড থাকবে। কেউ যখন আপনাকে হোস্টিং অর্ডার করবে বা ডোমেইন অর্ডার করবে এই প্যানেলে তা জমা হবে। এই প্যানেলে অর্ডার এক্টিভ করে দিলে অটোমেটিক whm থেকে একাউন্ট ক্রিয়েট হয়ে ক্লায়েন্ট এর মেইলে আইডি পাসওয়ার্ড ইনফর্মেশন মেইল চলে যাবে, ডোমেইনের ক্ষেত্রেও রিসেলার প্যানেল থেকে অটো ডোমেইন রেজিস্টার হয়ে যাবে এবং ক্লায়েন্ট তার একাউন্টে লগইন করে ডোমেইন ম্যানেজ করতে পারবে। পরবর্তিতে রিনিউ এর সময়ে অটো ক্লায়েন্ট এর কাছে মেইলে রিমাইন্ডার চলে যাবে। ডিউ টাইম ওভার হয়ে গেলে অটো ক্লায়েন্ট এর একাউন্ট সাসপেন্ড হয়ে যাবে। এই সবই হবে বিলিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে।

 

হোস্টিং বিলিং সফটওয়্যারের সুবিধাগুলোঃ
১। অটোমেটিক ডোমেইন হোস্টিং এক্টিভ করতে পারবেন।

২। বিভিন্ন পেমেন্ট গেটওয়ে অ্যাড করে কাস্টোমারের কাছে থেকে পেমেন্ট নিতে পারবেন এবং অনলাইন পেমেন্ট এর মাধ্যমে অটো একাউন্ট ম্যানেজ করতে পারবেন।

৩। অটো বিলিং রিমাইন্ডার সেট করতে পারবেন। রিনিউ এর সময় আসলে অটো ইনভয়েজ তৈরী হবে এবং ক্লায়েন্ট এর কাছে মেইল বা এসএমএস চলে যাবে।

৪। অটো পিডিএফ ইনভয়েজ তৈরী হবে এবং ক্লায়েন্ট এর কাছে চলে যাবে।।

৫। বিলিং ডেট ওভার হলে অটো একাউন্ট সাসপেন্ড বা টার্মিনেট করতে পারবেন।

৬। কাস্টোমার সাপোর্ট এর জন্য সাপোর্ট টিকিট ওপেন করতে পারবে।

৭। এই প্যানেলের মাধ্যমে অফার বা প্রমোকোড দিতে পারবেন এবং অটোমেটিক সেটি হ্যান্ডেল করতে পারবেন।

৮। কাস্টোমারের জন্য অ্যাফিলিয়েট সিস্টেম তৈরী করতে পারবেন।

৯। কাস্টোমারের জন্য মেনুয়াল ইনভয়েজ ক্রিয়েট করতে পারবেন ও ডোমেইন হোস্টিং বাদেও অন্যন্য সার্ভিস অর্ডার সিস্টেম বানাতে পারবেন।

১০। সেলস রিপোর্ট, ইনকাম রিপোর্ট দেখতে পারবেন।

 

এছাড়াও আরো অনেক অনেক কাজ করা যাবে এই বিলিং সফটওয়্যার এর মাধ্যমে। নিচে কিছু জনপ্রিয় বিলিং সফটওয়্যার নিয়ে আলোচনা করা হলো-

WHMCS:

whmcs

whmcs হচ্ছে হোস্টিং বিলিং এর জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক ব্যবহৃত বিলিং সফটওয়্যার। এর প্রাইস হচ্ছে ২৫০ জন কাস্টোমারের জন্য ১৯ ডলার মাসে। ২৫০+ থেকে ১০০০ জন কাস্টোমারের জন্য ২৫ ডলার মাসে এবং ১০০০+ বা আনলিমিটেড কাস্টোমারের জন্য ৪০ ডলার করে আপনাকে মাসে পে করতে হবে।
এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হচ্ছেঃ http://www.whmcs.com/

Hostbill

hostbill

এটিও বেশ জনপ্রিয় বিলিং সফটওয়্যার। এটি আপনাকে এককালীন ৯৯৯ ডলার দিয়ে লাইসেন্স নিয়ে ব্যবহার করতে হবে। পরবর্তিতে ১ বছর পার হবার পর সফটওয়্যারের আপডেট পেতে চাইলে ৯৯ ডলার করে বছরে পে করতে হবে। তবে এটি অপশনাল। আপনি চাইলে আপডেট নাও নিতে পারেন।
এর অফিসিয়াল সাইট হলোঃ https://hostbillapp.com/

Blesta

Blesta

হোস্টিং বিলিং ও অটোমেশনের জন্য Blesta ও অনেক জনপ্রিয়। এটির মাসিক লাইসেন্স প্রাইস ১৩ ডলার এবং আনলিমিটেড কাস্টোমার হ্যান্ডেল করতে পারবেন। আর লাইফটাইম লাইসেন্স প্রাইস ২৫০ ডলার।
ব্লেস্তা এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হলোঃ https://www.blesta.com/

 

কিছু ফ্রী বিলিং সফটওয়্যারঃ

আপনি চাইলে প্রাথমিক অবস্থায় এইসব পেইড বিলিং সফটওয়্যারের পেছনে ইনভেস্ট না করে ফ্রী বিলিং সফটওয়্যার দিয়েও কাজ চালাতে পারবেন (তবে প্তহম থেকেই যদি বড় করে শুরু করতে চান তবে প্রিমিয়াম বিলিং সফটওয়্যার নেয়াই বেস্ট)। এইসব ফ্রী বিলিং সফটওয়্যারেও প্রয়োজনীয় অটোমেশন ও বিলিং ইনভয়েসিং সব কাজগুলোই চলবে। ফ্রীতে ফ্রীতে এসব সফটওয়্যারের কিছু লিমিটেশন পাবেন, যেমন কাস্টোমার লিমিটেশন, প্যাকেজ লিমিটেশন। তবে প্রাথমিক অবস্থায় এইসব বিলিং সফটওয়্যার দিয়েও বেশ ভালো ভাবেই আপনার কাজ চলে যাবে। নিচে কিছু ফ্রী বিলিং সফটওয়্যারের লিস্ট দিলাম-

 

BillManager

BillManager ৫০ জন কাস্টোমার পর্যন্ত ফ্রী। এরপর থেকে আপনাকে ১৪ ডলার পে করতে হবে মাসে। বীলম্যানেজারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হলোঃ https://www.ispsystem.com/software/billmanager

 

BoxBilling

Box-Billing

এটি ফ্রী বিলিং সফটওয়্যার এর মধ্যে অনেক পপুলার। ফ্রীতে এখানে আপনি আনলিমিটেড ক্লায়েন্ট হ্যান্ডেল করতে পারবেন। তবে বিরক্তিকর জিনিস হলো ফ্রী তে ডোমেইন ও হোস্টিং মিলে মোট ৫টি প্যাকেজ বানাতে পারবেন। যার কারনে আমার কাছে এইটি ফ্রী ভার্সনে ব্যবহার অনুপযোগী মনে হয়। আপনি চাইলে ট্রাই করে দেখতে পারেন। তবে এটি মাসিক ৬ ডলার করে দিলে আনলিমিটেড ক্লায়েন্ট ও আনলিমিটেড প্যাকেজ হ্যান্ডেল করতে পারবেন। বক্সবিলিং এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট হলোঃ http://www.boxbilling.com/

 

এছাড়াও আরো বেশ কিছু ফ্রী বিলিং সফটওয়্যার আছে যেগুলো আপনি ট্রাই করে দেখতে পারেনঃ
HopeBilling: https://hopebilling.com/

Automia: https://www.atomia.com/

AWBS: https://www.awbs.com/

FreeSide: http://freeside.biz/freeside/

 

মার্কেটিং ও কোম্পানী প্লানিংঃ

আপনার নেক্সট স্টেপ হলো বিজনেস প্লানিং ও মার্কেটিং। আপনার ডোমেইন হোস্টিং বিক্রি করার মত সেটআপ রেডি, এখন আপনাকে আপনার সার্ভিস কাস্টোমার অবধী পৌছাতে হবে। কাস্টোমারের কাছে আপনার প্রতিষ্ঠানকে পরিচিত করতে হবে। প্রথমেই আপনাকে প্লান করতে হবে কিভাবে আপনি বিজনেসটা করতে চান? কারা আপনার টার্গেট কাস্টোমার। আপনার টার্গেট কাস্টোমারের অপর ভিত্তি করে আপনার মার্কেটিং প্লানগুলোকে সাজাতে হবে ও এর জন্য বাজেট সেট করতে হবে। আপনি অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন সোসাল মিডিয়া যেমন ফেসবুক, গুগলপ্লাস, টুইটার এসবের মাধ্যমে আপনার কোম্পানীর অফার ও সার্ভিসগুলো ফ্রীতে মার্কেটিং করতে পারেন। এছাড়া গুগল, বিং এ পেইড অ্যাড এর মাধ্যমেও মার্কেটিং করতে পারেন। ফেসবুকে পোস্ট বুস্ট করতে পারেন।
ইমেল, এসএমএস মার্কেটিং করতে পারেন। ফিজিক্যাল মার্কেটিং এর মধ্যে পত্রিকা, টিভিতে বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। বিভিন্ন আইটি প্রোগ্রামে স্পন্সর করার মাধ্যমে প্রচার করতে পারেন। প্রতিটি কোম্পানীরই মার্কেটিং এর নিজেস্ব্য স্ট্রাটেজী আছে। ধিরে ধিরে আপনাকে এটি আবিষ্কার করতে হবে। বিজনেস করার ক্ষেত্রে এইটাই আসলে প্রধান। আপনি যতই ইউনিক ও এক্টিভ স্ট্রাটেজী বানাবেন আপনি তত বেশি সফলতা পাবেন।

আজ তাহলে এই পর্যন্তই। কারো কোন প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন।

 

ডোমেইন হোস্টিং ব্যবসা করতে গেলে ডোমেইন হোস্টিং নিয়ে পিএইচডি করার দরকার নাই সত্য, তবে এই পোস্টটি পুরোটা পড়ার মত ধোর্য্য শক্তি অবশ্যই থাকতে হবে। 😉 

comments

Copyright © 2012-2018 Cyber Developer BD . All Rights Reserved.